প্রিয়জনকে বিদায় দেওয়ার শেষ মুহূর্তে আপনি কি জানেন কীভাবে তার জন্য দোয়া করবেন?
জানাজার নামাজ—এটা শুধু একটি নামাজ নয়, এটা একজন মুসলমানের প্রতি শেষ ভালোবাসা, শেষ সম্মান। আমাদের প্রতিদিন মৃত্যুর খবর শুনতে হয়, কিন্তু কয়জন জানি ঠিকভাবে জানাজার নামাজের নিয়ম?
ইসলামে জানাজার নামাজ ফরজে কেফায়া, অর্থাৎ সমাজের কেউ পড়লে সবাই দায়মুক্ত। কিন্তু কেউ না পড়লে পুরো সমাজ গুনাহগার হয়। তাই এটুকু শিখে রাখা শুধু দায়িত্ব নয়, বরং এটা ঈমানি দায়িত্ব।
জানাজার নামাজের দোয়া
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফির লি হাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়েবিনা ওয়া সগিরিনা ওয়া কাবিরিনা ওয়া জাকারিনা ওয়া উনছানা, আল্লাহুম্মা মান আহয়াইতাহু মিন্না ফাআহয়িহি আলাল ইসলাম ওয়া মান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু আলাল ইমান। আল্লাহুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহু ওয়া আলা তুদিল্লানা বা-দাহু।’
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত এবং মৃতদের, উপস্থিত এবং গায়েবদের, ছোট ও বড়দের এবং আমাদের নারী-পুরুষ সবাইকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের মধ্য থেকে যাকে জীবিত রাখবেন, তাকে ইসলামের ওপরই জীবিত রাখুন। যাকে মৃত্যু দান করবেন, তাকে ইমানের সঙ্গেই মৃত্যু দিন। হে আল্লাহ! এর সওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করবেন না এবং এরপর আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন না। (আবু দাউদ ৩২০১, তিরমিজি ১০২৪)
জানাজার নামাজ পড়ার সহজ নিয়ম: ১. মৃতকে সামনে রেখে দাঁড়ান। নিয়ত করুন—‘এই ইমামের পেছনে চার তাকবিরে জানাজার নামাজ পড়ছি’।
২. প্রথম তাকবির দিয়ে সানা পড়ুন।
৩. দ্বিতীয় তাকবির দিয়ে দরুদ শরিফ পড়ুন।
৪. তৃতীয় তাকবির দিয়ে মৃতের জন্য দোয়া করুন।
৫. চতুর্থ তাকবির দিয়ে ডানে ও বাঁ দিকে সালাম ফেরান।
পুরো নামাজে রুকু, সেজদা কিছু নেই। শুধু দোয়ার মাধ্যমে এই নামাজ আদায় হয়। আর মৃতের জন্য এই দোয়া তার জান্নাতের পথ সহজ করে দিতে পারে ইনশাআল্লাহ।
মৃত যদি ছেলেশিশু হয়, তবে এই দোয়া পড়া—
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজআলহু লানা ফারাতঁও ওয়াজআলহু লানা আজরাঁও ওয়া জুখরাঁও ওয়াজআলহু লানা শা-ফিআও ওয়া মুশাফ্ফাআ।
অর্থ: হে আল্লাহ! এই বাচ্চাকে আমাদের নাজাত ও আরামের জন্য আগে পাঠিয়ে দাও, তার জন্য যে দুঃখ, তা আমাদের প্রতিদান ও সম্পদের কারণ বানিয়ে দাও, তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী বানাও, যা তোমার দরবারে কবুল হয়।
আর মেয়েশিশু হলে এই দোয়া পড়া—
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজআলহা লানা ফারাতঁও ওয়াজআলহা লানা আজরাঁও ওয়া জুখরাঁও ওয়াজআলহা লানা শা-ফিআতাঁও ওয়া মুশাফ্ফাআহ।
অর্থ: হে আল্লাহ! এই বাচ্চাকে আমাদের নাজাত ও আরামের জন্য আগে পাঠিয়ে দাও, তার জন্য যে দুঃখ তা আমাদের প্রতিদান ও সম্পদের কারণ বানিয়ে দাও, তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী বানাও, যা তোমার দরবারে কবুল হয়।
শিশুদের জন্য দোয়া
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আইজহু মিন আজাবিল কবরি।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তুমি এই ছেলেটিকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করো।’ (মিশকাত ১৬৮৯)
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাজআলহু লানা সালাফান ওয়া ফারাতান ওয়া জুখরান ওয়া আজরান’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! এই ছেলেটিকে (কিয়ামতের দিন) আমাদের অগ্রবর্তী ব্যবস্থাপক, রক্ষিত ভান্ডার ও সওয়াবের কারণ বানাও)।’ (মিশকাত ১৬৯০)
ফজিলত কী? রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করে, তার জন্য এক কিরাত সওয়াব রয়েছে। আর দাফন পর্যন্ত থাকলে দুই কিরাত।” (বুখারি)
এই এক কিরাত মানে? উহুদের পর্বতের সমান সওয়াব! আপনি জানেন তো, এই ছোট্ট সময়টা আপনার জন্য পরকালে বিশাল বিনিময় হতে পারে?
আপনি যদি সত্যিই চাচ্ছেন মৃত্যুর পর কেউ আপনার জন্য দাঁড়িয়ে জানাজা পড়ুক, তাহলে আজ থেকেই নিজে জানাজার নামাজ শিখে রাখুন এবং অন্যদেরও শেখান।
খবর ৩৬৫ দিন, স্টাফ রিপোর্ট